Primeedition
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। গত বুধবার নিজ বাস ভবনে এসইএলের ইস্টোক করন,প্রথমে বাঘারপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর,সেখান থেকে খুলনার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শুক্রবার তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, সন্তান, আত্মীয়স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।
আবু তাহের সিদ্দিকী ছিলেন বাঘারপাড়ার রাজনীতিতে এক পরিচিত ও শ্রদ্ধাভাজন নাম। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আজীবন দল ও এলাকার মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। তিনি বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দলকে সাংগঠনিকভাবে সুসংহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
এছাড়াও তিনি তিন বারের নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রশংসনীয় অবদান রাখেন। পরবর্তীতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন এবং দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কল্যাণে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন, যা আজও এলাকার মানুষ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে।
রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনে আবু তাহের সিদ্দিকী ছিলেন একজন সজ্জন, বিনয়ী ও মানবিক মানুষ। দল-মত নির্বিশেষে তিনি সকলের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতেন। এলাকার দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং নৈতিক রাজনীতিতে বিশ্বাস করাই ছিল তাঁর চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
তাঁর ইন্তেকালের খবরে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও শোকবার্তায় তাঁকে একজন আদর্শ রাজনৈতিক নেতা ও অভিভাবকতুল্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন।
মন্তব্য করুন