মনিরামপুরে প্রশাসনের সাথে সৌখ্যতা রেখে মা*দক ব্যাবসা চালাচ্ছে একটি মহল। ধরাছোঁয়ার বাইরে উপজেলার পূর্ব অঞ্চলের ‘মা*দক সম্রাট’ ফারুক।
শামছুর রহমান
মনিরামপুর(যশোর)
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ১৪ নং দুর্বাডাঙ্গা নং১৫নং কুলটিয়া, ১৬ নং নেহালপুর, ও ১৭ নং মনোহরপুর ইউনিয়নে মা*দকের ভয়াবহ আগ্রাসনে বিপর্যস্ত জনজীবন। অবাধে মা*দক কেনাবেচার ফলে এলাকার যুবসমাজ আজ ধ্বংসের শেষপ্রান্তে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সৌখ্যতা রেখে এই মাদকের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন ফারুক হোসেন (২৫) নামের এক যুবক। নিজেকে রাজনৈতিক পরিচয়ধারী দাবি করে তিনি দিনের পর দিন চালিয়ে যাচ্ছেন এই অ*বৈধ কারবার।
অভিযুক্ত ফারুক হোসেন উপজেলার কুলটিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বাগডাঙ্গা গ্রামের আমির হামজার ছেলে। সে একাই ৪ ইউনিয়নের মাদক ব্যবসার গডফাদার। বিভিন্ন এলাকায় সাব এজেন্ট নিয়োগ দিয়ে ব্যাবসা চালাচ্ছে মনের আনন্দে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, একসময় সামান্য ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করলেও খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে মা*দকের ব্যবসায় জড়িয়ে এখন অঢেল সম্পদের মালিক বনে গেছে। সুত্রের ভাষায় রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে মা*দক বাণিজ্য করায় প্রশাসন ম্যানেজ করতে কষ্ট হয় না। ৪ ইউনিয়নে নিজ পছন্দের দলের নেতারা তার সাব এজেন্ট। রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সে। তার এই বেপরোয়া কার্যকলাপে ৪ ইউনিয়নের উঠতি বয়সের তরুণ ও যুবসমাজ প্রতিনিয়ত মা*দকের নে*শায় আ*সক্ত হয়ে পড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ফারুকের মা*দক ব্যবসার বিষয়টি সবার জানা থাকলেও অজানা কারণে তিনি বরাবরই প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। এলাকায় তার শক্ত নেটওয়ার্কের কারণে স্থানীয় সাধারণ মানুষ চরম আ*তঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। সচেতন মহল মনে করছেন, ফারুকের কর্মকাণ্ডে দ্রুত লাগাম টানা না গেলে ৪ ইউনিয়নের সামাজিক পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় অভিভাবকদের পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, "আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ আজ হু*মকির মুখে। প্রশাসনের কাছে আমাদের জোরালো দাবি, অবিলম্বে মা*দক সম্রাট ফারুককে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।"
এই বিষয়ে মনিরামপুর থানার (ওসি) তদন্ত বদরুজ্জামান মোল্যা বলেন, মনিরামপুরে মা*দকের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত অভিযান চলমান আছে, গত মাসে মা*দক মা*মলায় ১৮ জনকে আ*টক হয়েছে, মনিরামপুর থানা পুলিশ মা*দকের বিরুদ্ধে জিরো টরারেন্স ঘোষনা করেছে, এলাকায় যারা মা*দক ব্যবসা করছে তাদের কোনো ছাড় হবেনা, ফারুকের বিষয়ে আমরা এর আগেও অভিযোগ পেয়েছি, খুব দ্রুত আমরা তাকে খুঁজে বের করে তার বিরুদ্ধে আইনননুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মা*দকের এই অভিশাপ থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
বিশেষ মহলের দাবি প্রশাসনের এজেন্ট হিসেবে পরিচিত আতাউরের হাত ধরে ফারুক এই জগতে পা রাখে। পুলিশের ইনকাউন্টারে আতাউরের মৃত্যুর পর কিছু দিন আত্মগোপনে চলে যায় ফারুক। আতাউর চ্যাপ্টা ক্লোজ হলে ফিরে আসে এলাকায়। সে আতাউরের এলাকার মুকুট হীন সম্রাট।