নরসিংদীর শিবপুরে মরিয়ম আক্তার রত্না(২০) নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে লাশ রেখে পালিয়েছে শশুর বাড়ির লোকজন। হাসপাতাল থেকে খবর পেয়ে শিবপুর মডেল থানা পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (১৯ জানুয়ারী) রাত আটটায়।
নিহত মরিয়ম আক্তার উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের দরগারবন্দ গ্রামের হাবিব শেখের স্ত্রী। রত্নার বাবার বাড়ি পার্শ্ববর্তী পলাশ উপজেলার দক্ষিণদেওরা গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে। গত এক বছর পূর্বে দরগারবন্দ গ্রামের জবান শেখের ছেলে হাবিব শেখের সাথে রত্নার বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েকমাস পরেই তার স্বামী বিদেশ চলে যায়। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ১৯ জানুয়ারী সোমবার সন্ধ্যায় রত্না আক্তার থাকার ঘরে সিলিং ফ্যানে ওড়না দিয়ে ফাঁস নেয়।
এ সময় বাড়ির লোকজন দেখতে পেয়ে তাঁকে উদ্ধার করে শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক মিনারা বেগম তাঁকে মৃত ঘোষণা করলে, রত্নাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া লোকজন পালিয়ে যায়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিবপুর মডেল থানায় খবর দেয়। পুলিশ খবর পেয়ে রত্নার লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
নিহত রত্নার মাতা নাছিমা বেগম জানান, বিয়ের পর থেকেই মেয়ের শশুর শাশুড়ী যৌতুকের জন্য তাঁকে অত্যাচার নির্যাতন করত। আজ সোমবার সন্ধায় তাকে ফোন করে বলা হয়, তার মেয়ে অসুস্থ, দ্রুত যাওয়ার জন্য। পরে আমি রাতে হাসপাতাল থেকে খবর পাই আমার মেয়ে হাসপাতালে লাশ হয়ে পড়ে আছে। আমার মেয়েকে তার শশুর শাশুড়ী হত্যা করেছে। আমি তাদের বিচার চাই।
শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ কোহিনূর মিয়া জানান, আমি ঘটনাস্থল রাতেই পরিদর্শন করেছি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আত্মহত্যা করতে পারে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।