জয়পুরহাট-১ (সদর-পাঁচবিবি) আসনে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত মাননীয় সংসদ সদস্যকে নিজ নির্বাচনী সীমানার ভেতরেই চরম অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে। জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়া এমপিকে পাশ কাটিয়ে একের পর এক সরকারি, প্রশাসনিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।
অথচ তার বদলে সদর আসনের এসব অনুষ্ঠানে অতিথি করা হচ্ছে জয়পুরহাট-২ আসনের এমপি তথা প্রতিমন্ত্রীকে। শুধু তাই নয়, যিনি জনগণের ভোটে পরাজিত হয়ে নিজ দলীয় সরকার কোটায় জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন, তিনিই এখন সব জায়গায় প্রধান বা বিশেষ অতিথি হিসেবে দাপট দেখাচ্ছেন।
নির্বাচিত এমপিকে এভাবে কোণঠাসা করে রাখায় সদর-পাঁচবিবির সাধারণ ভোটারদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধান ও স্থানীয়দের অভিযোগে জানা যায়, নিজ আসনের সীমানায় অনুষ্ঠিত হওয়া বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোগ্রামে সুকৌশলে জয়পুরহাট-১ আসনের এমপিকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
১. জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ মিটিং সম্পন্ন হয়েছে সদর আসনের এমপিকে ছাড়াই।
২. জেলা প্রশাসন ও জয়পুরহাট টিটিসি (TTC)-এর উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে তাকে রাখা হয়নি।
৩. ‘নতুন কুঁড়ি’ সমাপনী অনুষ্ঠানের দাওয়াত কার্ড ছাপানো হয়েছে স্থানীয় এমপিকে বাদ দিয়েই।
৪. এমনকি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মতো আয়োজনেও তাকে অবজ্ঞা করা হয়েছে।
সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে এভাবে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি কি রাষ্ট্রীয়, নাকি দলীয় কোন্দলের বহিঃপ্রকাশ? নাকি এটি সদর-পাঁচবিবি উপজেলার লক্ষাধিক ভোটারকে ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি’ প্রদর্শনের শামিল? জনগণের ম্যান্ডেটকে অবজ্ঞা করে একজন পরাজিত প্রার্থী এবং অন্য আসনের এমপি তথা প্রতিমন্ত্রীকে পদে পদে হাইলাইট করার এই রাজনীতিকে সুস্থ ধারার চর্চা হিসেবে মানতে পারছেন না অনেকেই।
যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান বিভেদ ভুলে সবাইকে সাথে নিয়ে দেশ গঠনের কথা বলছেন, সেখানে জেলা পর্যায়ে ঠিক তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব বৈষম্যমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিমন্ত্রী মহোদয় ও জেলা প্রশাসকের নাকের ডগায় ঘটলেও তারা দৃশ্যত কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ভোটার আক্ষেপ করে বলেন, "বিগত সরকারের আমলেও আমরা দেখেছি নিজ দলীয় এমপি হয়েও জয়পুরহাট-১ আসনের এমপিকে বাদ দিয়ে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করা হতো। যদি এখনো নির্বাচিত এমপিকে বাদ দিয়ে ২ আসনের এমপি আর পরাজিত প্রার্থীকে নিয়ে সব চলে, তবে পার্থক্যটা কোথায় থাকলো?"
স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক হাইকমান্ড দ্রুত এ বিষয়ে সমন্বয় না করলে আগামীতে রাজনৈতিক বিভেদ আরও চরম আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।