নরসিংদী প্রতিনিধি:
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার আইয়ুবপুর ইউনিয়নের হিজুলিয়া গ্রামে জমি দখলকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী দুলাল মিয়া (পিতা: মৃত আব্দুল গফুর মিয়া) জানান, তিনি প্রায় দেড় যুগ আগে সাফ কবলা দলিলের মাধ্যমে জমিটি ক্রয় করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন। স্থানীয়দের চলাচলের সুবিধার্থে তিনি নিজ জমি থেকে প্রায় চার ফুট জায়গা রাস্তার জন্য ছেড়ে দিয়ে সেখানে বসতঘর নির্মাণ করেন।
তার দাবি অনুযায়ী, এসএ খতিয়ান নং ১০০, আরএস খতিয়ান নং ২৩ ও ১০২৭, এসএ দাগ নং ৭৯৩ এবং দলিল নং ৫৩৯ ও ৯৫৫৪ অনুযায়ী উক্ত জমির বৈধ মালিক তিনি নিজেই। তবে এলাকাবাসীর কয়েকজন ব্যক্তি—দেওয়ান আলীর ছেলে আব্দুল মতলিব ও আব্দুল বাতেন মিয়াসহ অন্যরা—পূর্বে জমি ছেড়ে দেওয়ার পরও পুনরায় সংঘবদ্ধ হয়ে জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, রাস্তার নাম ব্যবহার করে বসতঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। প্রতিবাদ জানালে তাকে মারধর করা হয় এবং গ্রাম থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। প্রাণনাশের আশঙ্কায় দুলাল মিয়া ও তার পরিবার বর্তমানে এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করছেন।
এ ঘটনায় শিবপুর থানায় এবং নরসিংদী জজ আদালতে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। নরসিংদী জজ আদালতে দায়েরকৃত মামলার তদন্তে আইয়ুবপুর ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, দখলকৃত প্রায় ২ শতাংশ জমির বৈধ মালিক দুলাল মিয়া। পাশাপাশি উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তার মাধ্যমে সঠিক সীমানা নির্ধারণের সুপারিশও করা হয়।
অপরদিকে, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, শিবপুর সিআর আমলি আদালত, নরসিংদীর মামলা নং ৮৪৫/২০২৫ (ধারা: ৪৮৮/৩২৩/৩০৭/৩৮০/৩৮৫/৪২৭/৪৩৫/৩৫৪/৫০৬/১১৪/৩৪)–এর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), নরসিংদীর এসআই মো. ওবায়দুর রহমানকে। প্রায় সাড়ে চার মাস তদন্ত শেষে গত ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তিনি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
তবে ওই প্রতিবেদনে দুলাল মিয়ার ক্রয়কৃত জমিকে ‘সরকারি রাস্তা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে বাদীপক্ষ অভিযোগ করে। এতে বিবাদীপক্ষ আরও উৎসাহিত হয়ে যে কোনো সময় উচ্ছেদের চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়টি বড় ধরনের সংঘাতের দিকে গড়াতে পারে বলেও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদনটি একতরফাভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং এতে প্রকৃত তথ্য সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি। এ বিষয়ে আমাদের প্রতিনিধি তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, “আমি প্রতিবেদনে বাদীর দখলে থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেছি।” তবে জমিটিকে সরকারি রাস্তা হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
দুলাল মিয়া বলেন, “আমার ক্রয়কৃত জমিকে সরকারি জায়গা দেখানো হয়েছে। তদন্ত চলাকালে আমাকে বারবার বিবাদীদের সঙ্গে আপোষ করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে। আমি ন্যায়বিচার চেয়েছি আদালতে—এ ধরনের আচরণে আমি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও আতঙ্কিত।”
তিনি আরও দাবি করেন, তদন্ত প্রতিবেদনটি পুনর্বিবেচনা করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ জরুরি।
এ বিষয়ে বিবাদীদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।