যশোরের মনিরামপুর উপজেলার বাহির ঘরিয়া গোপালপুর আলিম মাদ্রাসার দুই কর্মচারী নিয়ে খেলা জমতে শুরু করেছে।
জানাগেছে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্যের সরাসরি হস্তক্ষেপে অফিস সহকারী হিসেবে চাকরি পায় প্রতিমন্ত্রীর আস্থাভাজন গণজাগরণ মঞ্চের সদস্য বাহির ঘরিয়া গ্রামের আছাদুজ্জামানের স্ত্রী শিউলি আক্তার। বিজ্ঞপ্তিতে আরবিতে পারদর্শী থাকার কথা উল্লেখ থাকলেও দেখা হয়নি বিষয়টি। ১০ জনের উপর আবেদন করলেও বোর্ডে নেওয়া হয় একজন হিন্দু সহ মোট ৩ প্রার্থীকে। বাকিদের দেওয়া হয়নি ইন্টারভিউ কার্ড। পূর্ব সিদ্ধান্তে নিয়োগ পায় শিউলি। নাইট গার্ড হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় জহির উদ্দিনকে। ভূয়া সার্টিফিকেটে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান বয়স সার্টিফিকেটে দেখানো বয়স অনেক গড়মিল। চাকরি পাওয়ার সময় তার বয়স চাকরির বয়সসীমা উপর ছিল। নিয়োগ প্রাপ্তির পর চলছিল বেশ ২০২৪ সালে ৫ আগষ্টের পর ৬ আগষ্ট স্বেচ্ছায় পদত্যাগ পত্র জমা দিয়ে বিদায় নেয় ২ জন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তাঁরা তাঁদের পদত্যাগ পত্র বাতিল করে পুনরায় বৈধতা পেতে অধ্যক্ষর সাথে যোগাযোগ শুরু করে। অধ্যক্ষ সাবেক উলামা লীগের নেতা (বর্তমান জামায়াত নেতা) হওয়ায় তাদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে পুনঃ চাকরি বহালের জোর চেষ্টা চালায়। স্থানীয় বিএনপি জামায়াত সহ জনতার বাঁধার মুখে তার সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। তার পরামর্শে অভিযুক্তরা
যোগাযোগ করে স্থানীয় বিএনপির সাথে। চুক্তি হয় ৩ লক্ষ টাকা। গোপালপুর বাজারের ব্যবসায়ী ইন্তাজ আলীর মাধ্যমে হয় টাকা লেন দেন। জামায়াত ও জনতার বাঁধায় বিফলে যায় প্রচেষ্টা। স্থানীয় বিএনপি টাকা ফেরত দিয়ে সরে দাঁড়ায়। যোগাযোগ করে জামায়াতের সঙ্গে। বর্তমান এমপির নির্বাচনের আগে বিষয়টি মিমাংশার চেষ্টা চালায়। জনগণের দাবি সমর্থন করে সরে দাঁড়ান। বর্তমান থানা আমীর ফজলুর রহমান বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয় জামায়াত নেতাদের সাথে মিটিং করেছে। এসময় বিএনপি জামায়াত ও জনতার দাবির মুখে সরে দাঁড়ান তিনি। মাঠে নামে থানা নায়েবে আমির আলহাজ্ব মাওলানা লেয়াকত আলী, ১৪ নং দূর্বাডাঙ্গা আমির আলহাজ্ব মাওলানা আজিজুর রহমান, ৫ আগষ্টের পর জামায়াত নেতা সাজা ১৩ নং খানপুর ইউনিয়ন উলামা পরিষদের নায়েবে আমির মুফতি আব্দুর রহিম। দফায় দফায় মিটিং করেও তাঁরা ব্যর্থ হয়।
সরকার মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একভুতি করতে সকল নিয়োগ বন্ধ রাখায় সরাসরি ১৮০ ডিগ্রি ইউটার্ন নিতে নেয় জামায়াতের স্থানীয় ৩ নেতা। নেই মার চেয়ে কানা মা ভালো ধরে নিয়ে ১৩ নং খানপুর ইউনিয়ন জামায়াতের নায়েবে আমির উক্ত প্রতিষ্ঠানের সহকারী অধ্যাপক (আরবি) কমিটির টি আর সদস্য মাওঃ তজম্মুল আলী, প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ১৪ নং দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়ন ওলামা পরিষদের নেতা মাওলানা হাফিজুর রহমান, সদস্য সচিব অধ্যক্ষ মাওঃ আব্দুল মালেক একাট্টা হয়ে ৩+৫= ৮ লক্ষ টাকা গোপন চুক্তি করে। চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার সব আয়োজন শেষ হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় বিএনপি ও জনতার তোপের মুখে পড়ে সদস্য সচিব অধ্যক্ষ মাওঃ আব্দুল মালেক।
তথ্য অনুসন্ধানকালে জানাগেছে নাটের গুরু মাওঃ মালেক বিষয়টি ইউটার্ন নিয়ে উক্ত টাকা মাদ্রাসা একাউন্টে জমা করায়। যা গত সপ্তাহে মাদ্রাসা একাউন্টে জমা হয়েছ। পরে ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে আত্মসাতের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বিষয়টি জানাজানি হলে তোপের মুখে পড়ে এই ৩ জন। বাধ্য হয়ে ২৬ জুন মাদ্রাসার পরীক্ষকের রুমে উক্ত ৩ জন গোপালপুর ওয়ার্ড আমির আবদুল্লাহ, কমিটির সদস্য মাষ্টার আব্দুর রব কে নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে। ২৭ জুন বিকালে মাদ্রাসা কমিটির সাথে মিটিং করেছে।
বিএনপির একাংশের দাবি মোট ১২ লাখ টাকা চুক্তি হয়েছে। এখনো ৪ লক্ষ টাকা ৩ জনের পকেটে রয়েছে, ৮ লক্ষ টাকা জমা হয়েছে মাদ্রাসা একাউন্টে।
বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। যা যে কোন সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণ হতে পারে। মাওঃ আব্দুল মালেক দীর্ঘ দিন হলেও পদত্যাগ পত্র মন্ত্রণালয়ে জমা না দিয়ে নিজের কাছে রাখায় আজকের পরিস্থিতি। বিষয়টি মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী দেখবেন দাবি সচেতন মহলের।