সচিব মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হলেন গণ অধিকার পরিষদ থেকে পদত্যাগ করা বিএনপি নেতা রাশেদ খান। এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাশেদ খান নিজেই। তিনি তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস লেখেন---
আলহামদুলিল্লাহ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে তাঁর সহকারী ( রাজনৈতিক ) পদে সচিব পদমর্যাদায় নিয়োগ দিয়েছেন। অশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই বাংলাদেশের জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিমূর্তি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির মাননীয় চেয়ারম্যান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান স্যারকে।
আমি যাতে আস্থা ও বিশ্বাসের সহিত আমার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারি, এজন্য সবার দোয়া ও ভালবাসা চাই। নতুন জীবনের এই পথচলায় সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।
রাশেদ খান কোটা সংস্কার আন্দোলনের মাধ্যমে টাইম লাইনে আসেন। তাকে নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। ফ্যাসিস্ট হাসিনার পদলেহন সহ নানাবিধ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পরে গড়ে তোলেন গণ অধিকার পরিষদ নামক রাজনৈতিক দল। সেখানে গ্রুপিং সহ অর্থনৈতিক কেলেংকারির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অনেকেই গণ অধিকার পরিষদ ছেড়ে চলে যায়। ফলে তার সেক্রেটারি হওয়ার পথ সুগম হয়। সেক্রেটারি হওয়ার পর প্রবাসীদের নিকট থেকে বিকাশের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করে ব্যক্তিগত কাজে লাগানো সহ স্ত্রী কে দিয়ে সুদে অর্থ লেনদেন এর অভিযোগ ওঠে বাংলা এডিশন এর অনুসন্ধানে।
৫ আগষ্ট পরবর্তী তার বিলাসবহুল গাড়ি সহ চলাফেরা নিয়ে অনেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। এসব বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে বরাবরই তিনি এড়িয়ে যান।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে গণ অধিকার পরিষদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপির ঘাড়ে ওঠে বিতর্কিত রাশেদ খান। এরপর বিএনপির মনোনয়ন বাগিয়ে নেন। তাকে মনোনয়ন দেয়ায় স্থানীয় বিএনপি নেতারা তাকে মেনে নেয়নি। তৃণমূল নেতাকর্মীরা তার বিরুদ্ধে মাঠে নামে এবং সড়ক অবরোধ করে। বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে মারধরের শিকার হন রাশেদ। এরপরও তার মনোনয়ন বহাল রাখে বিএনপি। ফলশ্রুতিতে বিপুল ভোটে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। রাশেদ খান তৃতীয় স্থান অধিকার করে।
নির্বাচনে পরাজয়ের পর আক্রমণাত্মক ও হিংস্র হয়ে ওঠে রাশেদ খান। বিরোধী মতের লোকজন ও জামায়াতের বিরুদ্ধে বিষোদগার তার নৈমিত্তিক রুটিন ওয়ার্ক। বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলকে নিয়ে যেসব কথা বলতে চান, কিন্তু সামাজিক ও পারিবারিক কারণে মুখে উচ্চারণ করতে পারেন না সেগুলো রাশেদকে দিয়ে বালান এমনো অভিযোগ করেন জামায়াতপন্থি আইনজীবী এডভোকেট শাহরিয়ার। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য পীরজাদা হানজালাকে চিড়িয়াখানায় রাখার মত অশ্রাব্য কথা বলতেও দ্বিধা করে না এই উগ্র রাশেদ। এবার তার পুরস্কার হিসেবে তাকে সচিব পদমর্যাদায় রাজনৈতিক সহকারী বানালেন প্রধানমন্ত্রী। এতে আর বুঝতে অসুবিধা নেই।
কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান না থাকার পরেও তার আয়ের উৎস ব্যবসা। এখন সেই ব্যবসা পরিহার করে সচিবের দায়িত্ব পালন করতে হবে আগামী ৫ বছর প্রকারন্তরে প্রধানমন্ত্রী যতদিন চান।
নাইম ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার