যশোরের মণিরামপুর উপজেলার স্থানীয় বাজারগুলোতে হঠাৎ করেই বোতলজাতকৃত সয়াবিন তেল উধাও হয়ে গেছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে মণিরামপুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ মুদি দোকানেই বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট। বিশেষ করে ২ লিটারের বোতলগুলো তাক থেকে উধাও। ক্রেতাদের অভিযোগ, দোকানে তেল থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায়ীরা তা আড়ালে সরিয়ে রাখছেন এবং পরিচিত বা বেশি দাম দিতে রাজি হওয়া ক্রেতাদের কাছেই কেবল তেল বিক্রি করছেন।
বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২ লিটার ‘পুষ্টি’ কোম্পানির সয়াবিন তেলের বোতলে গায়ের মূল্য (MRP) ৩৯০ টাকা লেখা থাকলেও তা খোলাবাজারে বিক্রি করা হচ্ছে ৪৩০ টাকায়। প্রতি ২ লিটারের বোতলে ক্রেতাদের গুণতে হচ্ছে বাড়তি ৪০ টাকা। পুষ্টি ছাড়াও অন্যান্য কোম্পানির তেলের ক্ষেত্রেও একই অভিযোগ।
সাধারণ রান্নার কাজে প্রয়োজনীয় এই পণ্যের হঠাৎ এমন আকাশচুম্বী দামে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। বাজারে আসা এক ক্রেতা মোস্তাফিজুর রহমান মিলন ক্ষো'ভ প্রকাশ করে বলেন, বোতলের গায়ে দাম লেখা ৩৯০ টাকা অথচ দোকানদার এক দাম ৪৩০ টাকা চাচ্ছে। তেল না নিয়ে উপায় নেই, তাই বা'ধ্য হয়ে বেশি দামেই কিনতে হচ্ছে।
বাজারে এমন অরাজক পরিস্থিতি চললেও স্থানীয় প্রশাসনের কোনো তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।বাজার মনিটরিং বা ভ্রাম্যমাণ আদালতের কোনো অভিযান না থাকায় অসাধু সিন্ডিকেটগুলো আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তদারকির অভাবে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে একদল মুনাফাখোর ব্যবসায়ী। মণিরামপুরের সাধারণ জনগণের দাবি, দ্রুত বাজার মনিটরিং জোরদার করে এই কৃত্রিম সংকট দূর করা এবং জনস্বার্থে অতিরিক্ত মুনাফাখোর ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনা।