নরসিংদীর মনোহরদী বাস স্ট্যান্ড ও শিবপুর বাস স্ট্যান্ড ঘিরে যে অভিযোগ উঠেছে—মহাসড়কের ওপর গাড়ি দাঁড় করিয়ে চাঁদা তোলা এবং প্রতিবাদ করায় ড্রাইভারকে মারধর—তা কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি আমাদের সড়কব্যবস্থা, প্রশাসনিক জবাবদিহি ও আইনের শাসনের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।
নরসিংদী জেলার মনোহরদী ও শিবপুর অঞ্চলের ব্যস্ত সড়কপথে, বিশেষ করে শিবপুর নতুন রাস্তার ফ্লাইওভারের ওপর গাড়ি থামিয়ে টাকা তোলার অভিযোগ জনমনে ক্ষোভ তৈরি করেছে। অভিযোগ আছে, ঈদের সময় পৌরসভার নির্ধারিত স্ট্যান্ড থেকে ফি আদায়ের অনুমতি থাকলেও বাস্তবে মহাসড়কেই গাড়ি থামিয়ে অর্থ আদায় চলছে। এতে একদিকে যেমন যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে পরিবহন শ্রমিকদের ওপর তৈরি হচ্ছে অযৌক্তিক চাপ।
প্রশ্ন হচ্ছে—মহাসড়ক কি কারও ব্যক্তিগত আদায়কেন্দ্র? মহাসড়ক দেশের অর্থনীতির প্রাণস্রোত। সেখানে গাড়ি থামিয়ে চাঁদা তোলা কেবল বেআইনি নয়, এটি জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী। প্রতিবাদ করায় চালককে মারধরের অভিযোগ আরও গুরুতর; এটি আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর শামিল।
স্থানীয়ভাবে অনেকেই বলছেন, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণেই নাকি প্রশাসন নীরব। যদি সত্যিই তা হয়, তবে সেটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার জন্য বিপজ্জনক বার্তা বহন করে। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও দ্রুত পদক্ষেপই পারে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করতে। “দেখেও না দেখা”—এমন সংস্কৃতি দীর্ঘমেয়াদে জনআস্থাকে ক্ষয় করে।
আমরা মনে করি:
মহাসড়কে যেকোনো ধরনের অবৈধ আদায় অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
ড্রাইভারকে মারধরের অভিযোগে দ্রুত, স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
পৌরসভার নির্ধারিত স্ট্যান্ড ও ফি আদায়ের প্রক্রিয়া জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
সড়ক মানুষের, রাষ্ট্রের; কোনো গোষ্ঠীর একচ্ছত্র দখলদারিত্বের জায়গা নয়। উৎসবের সময় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়ে চাঁদাবাজিকে “উৎসবে” পরিণত করার প্রবণতা বন্ধ করতে না পারলে এর নেতিবাচক প্রভাব বহুদূর গড়াবে।
নরসিংদীর মানুষ ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা চায়। প্রশাসন যদি দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়, তবে জনআস্থা ফিরবে। অন্যথায় মহাসড়কের এই অনিয়ম একসময় বৃহত্তর সংকটে রূপ নেবে—যার দায় এড়ানোর সুযোগ কারও থাকবে না। ছবি সংগ্রহকৃত