ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জে ১১০ বছর বয়সে ভোট প্রদান করেছেন আলেয়া বেগম
উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পেরে তিনি আনন্দ প্রকাশ করেন। তার মতো অন্যান্য ভোটাররাও শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, মুন্সিগঞ্জ ২৪ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে সকালেই ভোট দেন আলেয়া বেগম। ভোট প্রদানের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর আমি ভোট দিতে পারিনি। এবার মন খুলে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরে খুবই খুশি
সঙ্গে নিয়ে এসেছি আমার প্রতিবন্ধী মেয়ে ফুলি (৭৫) এবং আমার ছেলের শাশুড়ি নূরজাহান (৯০)। এটাই হয়তো আমার জীবনের শেষ ভোট। আনন্দের সঙ্গে ভোট দিতে পারায় আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি।”
শ্যামনগর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত সাতক্ষীরা-৪ সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯৫ হাজার ৮৪৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৮ হাজার ২১৬ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬২৭ জন। এই আসনে মোট ৯৬টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে।
এ আসনে চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ড. মনিরুজ্জামান, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে কাজী নজরুল ইসলাম, হাতপাখা প্রতীক নিয়ে হাজী মনির এবং নাঙ্গল প্রতীক নিয়ে এডভোকেট আব্দুর রশিদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। ভোটারদের মতে, ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।
ভোট দিতে আসা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর পর মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পারছে, এটিই সবচেয়ে বড় বিষয়। কে কাকে ভোট দেবে, সেটা বড় কথা নয়—গণতান্ত্রিক পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়াটাই আনন্দের। সুন্দর নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করায় অন্তর্বর্তী সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।”
শ্যামনগর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সকাল ১০টা পর্যন্ত প্রায় ১৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে চলছে বলে তিনি জানান।