পানির তীব্র সংকটে শ্যামনগরে বোরো আবাদ হুমকির মুখে ঋণের বোঝায় দিশেহারা কৃষক
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে তীব্র পানির সংকটে কৃষি উৎপাদন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। মৌসুমের শুরুতে আশাবাদী হয়ে কৃষকেরা ব্যাপকভাবে বোরো আবাদ শুরু করলেও বর্তমানে সেচের পানির অভাবে মাঝপথে এসে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।
মাঠ পর্যায়ে দেখা গেছে, শুরুতে জমি প্রস্তুত বীজ রোপণ ও সার প্রয়োগের পর ধানের চারা ভালোভাবে বেড়ে উঠছিল। কিন্তু সময়মতো সেচের পানি না পাওয়ায় জমিতে ফাটল ধরেছে। অনেক ক্ষেতেই ধানের চারা হলুদ হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে, ফলে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় অধিকাংশ খাল-বিল ও পুকুরের পানি ইতোমধ্যে শুকিয়ে গেছে। যেসব জলাশয়ে কিছু পানি অবশিষ্ট রয়েছে তার বড় অংশই লবণাক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে সেই পানি সেচের কাজে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। পাশাপাশি নদী ও খালের অবৈধ দখল পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেনন বড় আশা করে এ বছর ঋণ করে বোরো চাষ করেছি, কিন্তু পানির অভাবে সেই আশা পূরণ হবে না।
ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের শ্রীফলকাটি গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান বলেন ধার করে চাষ করেছি। এখন পানি না থাকায় ধান বাঁচাতে পারছি না। ঋণ কীভাবে শোধ করবো বুঝতে পারছি না।
মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জেলেখালি গ্রামের কৃষক পরেশ আউলিয়া বলেন মাঝপথে এসে এমন সংকটে পড়বো ভাবিনি। দ্রুত পানি না পেলে পুরো ফসলই নষ্ট হয়ে যাবে।
কৃষিবিদ কৃষ্ণপদ পরমান্য জানান উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ ধরনের সংকট দিন দিন তীব্র হচ্ছে। একই সঙ্গে নদী খাল ও পুকুর ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন নদী ও খাল অবৈধ দখলমুক্ত করে পুনঃখনন এবং কৃষি জমিতে সরকারি উদ্যোগে পুকুর খনন করা হলে এই সংকট অনেকাংশে লাঘব করা সম্ভব। এতে উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকদের দুর্ভোগও কমবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ওয়ালিউল ইসলাম বলেন অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর বোরো আবাদের চাহিদা অনেক বেড়েছে। আমরা খাল ও পুকুর খননের কাজ চলমান রেখেছি। নতুন করে কোথায় খনন প্রয়োজন সে তালিকা দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়ারও চেষ্টা করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে শ্যামনগরের কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং কৃষকেরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।
বর্তমান বাস্তবতায় পানির অভাবে বোরো আবাদ করেও যখন ফসল রক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে, তখন কৃষকের কপালে ভাঁজ আর চোখে হতাশা ছাড়া কিছুই থাকে না। শ্যামনগরের কৃষকেরা এখন সেই কঠিন বাস্তবতার সঙ্গেই প্রতিনিয়ত লড়াই করছেন।