জয়পুরহাট আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার নামে চরম অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি এবং অরাজকতার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর অসুস্থ হয়েও তিন দিন আগে সিরিয়াল দিয়ে চিকিৎসা না পাওয়া এবং এর প্রতিবাদ করায় রোগীর স্বজনদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতাল চত্বরে দালাল চক্র ও অসাধু কর্মচারীদের সিন্ডিকেটে সাধারণ রোগীরা এখন জিম্মি হয়ে পড়েছেন।
সিরিয়াল বাণিজ্যের নেপথ্যে:
ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, এক মুমূর্ষু রোগীর জন্য তিন দিন আগে নিয়ম মেনে সিরিয়াল দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালের কিছু অসাধু কর্মচারী টাকার বিনিময়ে এবং প্রভাবশালী মহলের তদবিরে সিরিয়াল ওলটপালট করছেন। যারা টাকা দিচ্ছেন বা প্রভাব খাটাচ্ছেন, তাদের সিরিয়াল পেছনে থাকলেও আগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পক্ষান্তরে, সংকটাপন্ন অবস্থায় থেকেও সাধারণ রোগীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকছেন।
প্রতিবাদ করায় শারীরিক লাঞ্ছনা:
দুই দিন অপেক্ষার পর যখন ভুক্তভোগী পরিবার এই অনিয়মের প্রতিবাদ জানায়, তখন হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মচারী ও তাদের মদদপুষ্ট বহিরাগত ‘দালাল চক্র’ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রতিবাদকারীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয় এবং শারীরিক নির্যাতন করা হয়। সরকারি হাসপাতালে সেবা নিতে এসে এভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জিম্মি সাধারণ মানুষ:
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতাল চত্বরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে একটি প্রভাবশালী দালাল চক্র।
অভিযোগ রয়েছে যে:
জরুরি বিভাগ ও আউটডোরে সিরিয়াল আগে দেওয়ার নাম করে টাকা আদায় করা হচ্ছে।
ডাক্তার দেখানোর সুযোগ করে দিতে ‘চাঁদাবাজ’ সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে।
নিরাপত্তা কর্মীদের চোখের সামনেই বহিরাগতরা রোগীদের হয়রানি করছে।
সেবা নিতে আসা এক সাধারণ মানুষ আক্ষেপ করে বলেন, "হাসপাতাল কি সাধারণ মানুষের চিকিৎসার জায়গা, নাকি প্রভাবশালী আর চাঁদাবাজদের আস্তানা?"
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি:
হাসপাতালের এই অরাজক পরিস্থিতির সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।