প্রায় দুই যুগ পর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের পথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সদ্যসমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির জ্যেষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বড় অংশ বিজয়ী হওয়ায় নতুন সরকার গঠন এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
সরকার গঠনের প্রাক্কালে মন্ত্রিসভা ও রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘিরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দলীয় সূত্রের বরাতে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদনে মন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, প্রবীণ রাজনীতিক ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খানের নাম আলোচনায় উঠে এসেছে।
দলীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, রাষ্ট্রীয় কাঠামো সম্পর্কে গভীর ধারণা এবং দলের প্রতি তাঁর অবিচল ভূমিকার কারণে ড. আব্দুল মঈন খানকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা চলছে। অতীতে শিক্ষা ও বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থাকায় তাঁকে রাষ্ট্র পরিচালনায় উপযুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এছাড়াও সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নামও আলোচিত হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দল ও দেশের সংকটময় সময়ে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা এবং গ্রহণযোগ্যতার দিক বিবেচনায় এই নেতাদের নাম সামনে আসছে।
তবে মন্ত্রীসভা ও রাষ্ট্রপতি পদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সরকার গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসবে।
এদিকে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর দেশজুড়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, নতুন সরকার গঠনের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক ধারায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।