Primeedition
শামছুর রহমান
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ৯:৪২ সকাল
অনলাইন সংস্করণ |102 ভিউ

রংপুরে আমিরে জামায়াত। গণরায় বাস্তবায়ন হবেই

ফাইল ফটো
ফাইল ফটো
জাতীয় সংসদের মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ও সম্মানিত আমীরে জামায়াত ডাঃ শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, আমরা দেশের মানুষের উন্নয়ন চাই। আমাদের দলের মুক্তি নয়, দেশবাসীর মুক্তি চাই। আমাদের দলের উন্নতি নয়, দেশবাসীর উন্নতি চাই। এভাবে একটি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন করতে চাই। 
১৫ মে জুম'আ বার বিকালে রংপুর মহানগরী আয়োজিত সুধী সমাবেশের পূর্ব মুহূর্তে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। 

ডাঃ শফিকুর রহমান বলেন, আমি রংপুর অঞ্চলের প্রতি সুবিচার করার চেষ্টা করছি। কোনো এহসান করিনি। জাতীয় দায়িত্বশীল নেতা হিসেবে এটি আপনাদের পাওনা। আপনাদের সাথে আমি ও আমাদের সংগঠন আছে। এই অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য আমরা বলেছি কৃষির রাজধানী হিসেবে এটিকে ঘোষণা করা হোক। মুখের কথা নয় বাস্তবে কৃষির রাজধানী হিসেবে রূপান্তর করার জন্য যত কর্মসূচি নেয়া দরকার, রাষ্ট্র সব কর্মসূচি নেবে। হয় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে হবে নয় বেসরকারি উদ্যোগে হবে, তা না হলে যৌথ উদ্যোগে হবে। দেশীয় উদ্যোগ, না হয় আন্তর্জাতিক উদ্যোগে হবে। এর চেহারা বদলাবে, ইনশাআল্লাহ। সেই পরিকল্পনা আমরা অন্তরে ধারন করি। বর্তমান সরকার যদি আমাদের কল্পনার বিষয়গুলো বাস্তবে রূপ দেয় তাহলে তাদের ধন্যবাদ জানাব। 
তিনি আরও বলেন, গণভোটে ৭০ ভাগ মানুষ হ্যাঁ এর পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু সরকারি দল এটিকে অপমান ও অগ্রাহ্য করছে। আমরা কথা দিচ্ছি- এই কর্মসূচি আমরা বাদ দেবো না, পরিত্যক্ত ঘোষণা করব না। সংসদের ভিতরে ও বাইরে লড়াই চালিয়ে যাবো। আমরা গভীর আস্থাশীল গণভোটের রায় এই বাংলার জমিনে একদিন বাস্তবায়ন হবেই। অপমানে অবহেলায় গণভোটের রায় পরিত্যক্ত হবে না। 
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, জনগণ এ রাষ্ট্রের রূপান্তর চায়, বিশেষ করে আমাদের যুব সমাজ। কিন্তু রূপান্তরের যে সমস্ত অধ্যাদেশ অন্তর্বর্তী সরকার জারি করেছিল, রূপান্তরের জন্য যেগুলো প্রয়োজন, বর্তমান সরকারি দল সেগুলোর সব বাদ দিয়েছে। সেগুলো আলোচনার টেবিলে আনেনি। সংসদে আলোচনার সুযোগ না দেয়ায় আমরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছি। তবে সংসদ কাউকে ছেড়ে দেইনি কারো জন্য, কারণ জনগণ আমাদের রাগ করে বাইরে বসার জন্য সংসদে পাঠায়নি। তাদের কথাগুলো বলার জন্য জনগণ পাঠিয়েছে, বলেন তিনি।
ডাঃ শফিকুর রহমান বলেন, অতীতের মতো সংসদে গান গাওয়া, অন্যদের গালিগালাজ করার সংস্কৃতি আমরা দেখতে চাই না। সংসদ হবে রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড ও উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু। রাষ্ট্রের ভালো মন্দ নিয়ে আলোচনা হবে। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে কিভাবে সংহত করা যায়, যুব সমাজের হাতে কিভাবে কাজ তুলে দেয়া যায়, বেকারত্ব কিভাবে দূর করা যায়, শিল্পে কিভাবে বিপ্লব আনা যায়- সেই বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে সংসদে। চরিত্র হননের মতো কথা কাউকে বলার সুযোগ না দিতে স্পিকারের প্রতি আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা। 
তিনি বলেন, সংসদ তামাশা করার জায়গা নয়, কারো বাবার টাকায় এটা চলে না, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় চলে। আমাদের দায় আছে, যা-তা বলা যাবে না। জনগণের কল্যাণের জন্য কথা বলতে হবে। আমাদের লড়াই এই নীতির ভিত্তিতে চলবে। সরকার ভালো কাজ করলে সহযোগিতা ও সমর্থন দেবো। মন্দ কাজ ও অপকর্ম করলে রুখে দাঁড়াবো। 
আমীরে জামায়াত বলেন, দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছিল। আমরা আলোচনার জন্য নোটিশ দিয়েছিলাম। সরকারি দল ভয় পায়, আমাদের আলোচনা করতে দেবে না। কারণ, আলোচনা করতে গিয়ে কেঁচো খুড়তে যদি সাপ বের হয়ে আসে- এই ভয়ে তারা আমাদের কথা বলতে দেবে না। পরে সরকার বাধ্য হয়েছে আলোচনার সুযোগ দিতে। পরে কমিটি করে দেয়ার পর দু'দিনের ভিতরে বাংলাদেশের ভিতরের চিত্র পাল্টে যায়। 
তিনি আরও বলেন, সরকারি দল বিরোধী দল জনগণের সমস্যা সমাধানে আন্তরিক হলে জনগণের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরি হবে। আস্থার কারণে জ্বালানি সমস্যা দু'দিনের মধ্যে সমাধান হয়েছে। আমরা আস্থার রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে চাই। বিরোধী দলের জন্য আমরা রাজনীতি করতে চাই না। বিরোধী দল বাংলাদেশের জনগণের ভোট নিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে লুটপাট করে খাবে- সেটি আর হবে না।
 ডাঃ শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি দল গণভোটকে অগ্রাহ্য করেছে, তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পরিবর্তন করে অত্যন্ত দুর্বল ও বিতর্কিত একজন মানুষকে সেই সম্মানজনক আমানতের জায়গায় বসিয়েছে। দেশের ৪২টি জেলায় প্রশাসক বসিয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দেশ এখন আগাচ্ছে, তখন কেন প্রশাসক নিয়োগ দিতে হবে, দলীয় লোকদের কেন নিয়োগ দিতে হবে। বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচন করে জনগণ যাকে প্রত্যাখান করেছে, হেরে গেছেন- তাদেরই আবার বড় বড় জায়গায় বসিয়ে দেয়া হচ্ছে। এটি জনগণের সাথে এক ধরনের তামাশা- বলেন তিনি। 
আমীরে জামায়াত আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দলীয় অনুগত লোকদের ভিসি, প্রো-ভিসি, প্রক্টর ও প্রভোস্টসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। এগুলোর কোনো জবাব নেই। তিনি সতর্ক করে বলেন, মনে রাখবেন কারো পরিকল্পনাই চূড়ান্ত না, আল্লাহর মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত। অতীতের সরকার পরিকল্পনা করে সাড়ে ১৫ বছর ক্ষমতায় ছিল, কিন্তু দু'দিনেই সব পরিকল্পনা তছনছ হয়ে গেছে। 
এসময় তার সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল পরিচালক মাওলনা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর মহানগরীর আমীর মাওলানা এটিএম আজম খান, অঞ্চলের জেলা আমীরবৃন্দসহ দায়িত্বশীলরা।
প্রতিবেদকের তথ্য

শামছুর রহমান

উপজেলা প্রতিনিধি (মনিরামপুর) অনলাইন সংস্করণ

পোস্টটি শেয়ার করুন

Facebook X WhatsApp Telegram LinkedIn

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৬ মাসে সারা দেশে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৩৮ নেতাকর্মী নিহত

1

জামায়াতের বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিতি প্রমাণ করে জনগণ গণভোটের

2

জামায়াতকে ৪ বার নিষিদ্ধ করেছে ৩ স্বৈরাচার । ৩ জনের পতন নিশ্

3

হাসিনাকে নিয়ে ভারত খেলছে

4

মনিরামপুর থানা পুলিশ মহাসিন হত্যা মামলার সন্দেহভাজন মুল আসাম

5

বিএনপির এমপি মন্ত্রীদের আপত্তিকর ভিডিও ফাঁস

6

আসলাম এখন বিএনপি এমপির পিএস

7

আগস্ট মাস অতিতে গুরুত্বপূর্ণ না হলেও বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ।

8

গোপালগঞ্জ বিএনপিকে ডুবাতে এক বদরুল যথেষ্ট

9

হাসিনাকে রাজনীতি করার সুযোগ দেবে না ভারত

10

সড়কের বেহাল দশা। রয়েছে এতিম অবস্থায়। উদ্ধার করে না কেউ

11

জামায়াত ঠেকাতে আওয়ামীলীগ এনে লাভ হবে না

12

রক্তের বিনিময়ে অর্জিত জুলাইয়ের নতুন বাংলাদেশে নব্য ফ্যাসিব

13

ছাত্রলীগের পক্ষে ছাত্রদল। রাবির ঘটনায় শিবিরের নামে মামলা

14

সাজা বিএনপি নেতার অত্যাচার, বাড়ি ঘর ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে আসল

15

৫ আগষ্ট ১১ দলের সমাবেশ

16

জামায়াত তাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করলেন

17

এনসিপির সমাবেশের পাশে জামায়াত শিবিরের শো ডাউন

18

মাদক মামলায় ছাত্রদল সভাপতি আটক

19

জামায়াত সহ ১১ দলীয় জোট শ্রমিকরা বাদে সবদল ভারতের পকেটে

20