গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় ইউনিয়নে মুসলিমদের পবিত্র ধর্মীয় বিধান ও খাদ্যতালিকায় থাকা 'গরু জবাই' না দেওয়ার জন্য তথাকথিত 'উপর মহলের' মৌখিক নির্দেশ দেশব্যাপী তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।
মুসলিম অধ্যুষিত একটি রাষ্ট্রে এমন নির্দেশনা কেবল অভাবনীয়ই নয়, বরং স্থানীয় ক্ষমতার অসম বিন্যাস ও সাম্প্রদায়িক আধিপত্যের এক চরম বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, জলিরপাড় ইউনিয়নটি মূলত হিন্দু অধ্যুষিত। এর সাথে যোগ হয়েছে প্রভাবশালী খ্রিস্টান মিশনারী শক্তি। ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান কাঠামো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ১ জন চেয়ারম্যান এবং ৯ জন মেম্বারের মধ্যে কোনো মুসলিম প্রতিনিধি নেই। ৮ জন হিন্দু ও ১ জন খ্রিস্টান প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত এই পরিষদটি দীর্ঘদিন ধরেই সংখ্যালঘু মুসলিমদের অধিকারের বিষয়ে উদাসীন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ইউনিয়নে আজ পর্যন্ত কোনো মুসলিম ব্যক্তি চেয়ারম্যান পদে জয়ী হতে পারেননি।
স্থানীয়দের দাবি, জলিরপাড় বাজারের পাশের বৃহৎ খ্রিস্টান মিশনারী গির্জা ও স্থানীয় হিন্দু নেতৃত্ব একযোগে কাজ করে। মুসলিমরা এখানে সংখ্যালঘু , ফলে দাবি-দাওয়া ও ধর্মীয় অধিকারগুলো বারবার উপেক্ষিত হয়। সম্প্রতি এই সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে নির্বাচিত নারী সংসদ সদস্য সুবর্ণা সিকদার (সুবর্ণা ঠাকুর)। তিনি ওই অঞ্চলের লক্ষাধিক হিন্দু মাতুয়া জনগোষ্ঠীর প্রভাবশালী নেত্রী হিসেবে পরিচিত।
অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় এই সম্মিলিত শক্তির মদদেই 'উপর মহলের' দোহাই দিয়ে ভারত স্টাইলে গরু জবাই বন্ধের চেষ্টা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের মধ্যে এই ইউনিয়নকে ভারতীয় আইনে চালানোর চেষ্টা চলছে। সচেতন সমাজ বিষয়টিকে গভীর শঙ্কার চোখে দেখছেন। তাদের মতে, একটি ছোট ইউনিয়নেই ক্ষমতা পেয়ে যদি মুসলিমদের মৌলিক অধিকার ও আহারে হস্তক্ষেপ করা হয়, তবে জাতীয় পর্যায়ে এর প্রভাব কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা প্রশ্নাতীত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই এই নির্দেশকে 'ভারতীয় জাতীয়তাবাদ' এবং 'মুসলিম বিদ্বেষের' প্রতিফলন হিসেবে অভিহিত করছেন।