যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার রানগর গ্রামেরস্বনামধন্য পল্লী কবি আজগর আলী  ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

 মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তাঁর ইন্তেকালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

তিনি গত কাল ১২/০১/২৬ ইং সোমবার,২৫০ শয্যা হসপিটালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১৩/০১/২৬ আজ মঙ্গলবার জোহর নামাজের পর মরহুমের নিজ গ্রাম রানগরে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।

পল্লী কবি আজগর আলী গ্রামবাংলার সহজ-সরল জীবন, মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না ও সমাজবাস্তবতাকে কেন্দ্র করে অসংখ্য ছড়া ও কবিতা রচনা করেছেন।

তাঁর লেখনীতে ফুটে উঠত গ্রামীণ সংস্কৃতির প্রাণস্পন্দন। তাঁর লেখা ছড়া ও কবিতা শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষকে বিনোদনের পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা ও জীবনবোধে উদ্বুদ্ধ করত।

 শিক্ষা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গ্রহণের সুযোগ না পেলেও তিনি ছিলেন স্বভাবকবি  যার কলমে সহজ ভাষায় গভীর অনুভূতির প্রকাশ ঘটত।

আজগর আলীর জীবনের অন্যতম গর্ব ছিল তাঁর সন্তানদের শিক্ষা ও মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা।

 নিজে লেখাপড়া না জানলেও তিনি সন্তানদের শিক্ষার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। বড় ছেলে ও পুত্রবধূ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। মেঝ ছেলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত। কন্যারাও উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে নিজ নিজ সংসারে সুপ্রতিষ্ঠিত।

তিনি স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে, আত্মীয়স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে স্থানীয় সাহিত্যাঙ্গন, সংস্কৃতিমনা মানুষ ও গ্রামবাসীরা এক অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

এলাকাবাসী ও শুভানুধ্যায়ীরা বলেন, পল্লী কবি আজগর আলী ছিলেন একজন নিরহংকারী, সৎ ও মানবিক মানুষ। তাঁর কবিতা ও ছড়ার মধ্য দিয়ে তিনি আজীবন মানুষের মাঝে বেঁচে থাকবেন। তাঁর মৃত্যুতে যে শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হবার নয়।