এডিশন ডেস্কঃ 
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ভোটের মাঠে না থাকায় এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী বড় পরিসরে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশে বর্তমান নাজুক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপি, এনসিপি ও জামায়াতের নেতৃত্বাধীন আট দলের ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলে জামায়াতের লাভবান হওয়ার ঝুঁকি আছে, এমন ভাবনা থেকে এনসিপিকে ছাড় দিয়ে সঙ্গে রাখার কৌশল নেওয়া হয়েছে। এই দিকগুলো বিবেচনায় রেখে এনসিপি ও বিএনপির সমমনা দলগুলোকে ছাড় দিলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠতে পারে এমন ৬৩টি আসনে রয়েসয়ে মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে।

সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী দলগুলোকে নিজ নিজ প্রতীকে ভোটের মাঠে লড়তে হবে। এমন পরিস্থিতিতে এনসিপি ও বিএনপির সমমনা দলগুলোকে সঙ্গে রাখতে কী কৌশল নেওয়া যায়, সে বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্দেশনা দেবেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্য বলেন, ফাঁকা রাখা আসনগুলোয় এনসিপি, গণতন্ত্র মঞ্চের শরিক দলগুলোর পাশাপাশি ১২-দলীয় জোটের নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হবে। এর বাইরে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকের জন্য একটি আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে। আন্দোলনে শরিক দলগুলোর নেতাদের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হবে লন্ডনে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩৭ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে বলেন, এই তালিকার কিছু আসনে শেষ মুহূর্তে প্রার্থী পরিবর্তনও করা হতে পারে।

এনসিপি নেতাদের কোথায় কোথায় কটি আসন দেওয়া যায়, সে বিষয়ে দলটির সঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ বিভিন্ন সময় কথা বলেছেন। এনসিপির জন্য প্রাথমিকভাবে আটটি আসন রাখা হয়েছে। আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের জন্য ঢাকা-১১ ও অন্যতম নেত্রী তাসনিম জারাকে রাজধানীর একটি আসনে ছাড় দেওয়া হতে পারে। এর বাইরে বগুড়া-২ আসন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, ঢাকা-১৩ আসনে এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, গণফোরাম সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী ঢাকার একটি আসনে, চট্টগ্রাম-১৪ আসনে এলডিপি একাংশের চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদকে কুমিল্লা-৭, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে এলডিপির অন্য অংশের চেয়ারম্যান শাহাদাৎ হোসেন সেলিম, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে জাসদ একাংশের সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ঢাকার-১৭ আসন থেকে, পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন থেকে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, নড়াইল-২ আসন থেকে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) সভাপতি ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ আন্দোলনে শরিক দলগুলোর নেতাদের প্রার্থিতায় বিএনপি সমর্থন দিতে পারে।

জোট না করেও বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতার ইঙ্গিত রয়েছে এনসিপি নেতাদের বক্তব্যেও। এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী গণমাধ্যমকে গতকাল মঙ্গলবার জানান, এবারের নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্বাচনী আসনে কোনো প্রার্থী দেবে না এনসিপি। খালেদা জিয়া বগুড়া, ফেনী ও দিনাজপুরে একটি করে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।