যশোরের মনিরামপুরে ব্যাটারিচালিত ভ্যানচালক মহাসিন হোসেন (২৫) হত্যা ও লাশ গুমের আলোচিত মামলার অন্যতম প্রধান আসামি আসাদুল্লাহ আসাদ (৩৩)-কে গ্রেফতার করেছে মনিরামপুর থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। গ্রেফতারকৃত আসাদুল উপজেলার রামপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে।
মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে জীবিকার তাগিদে ব্যাটারিচালিত ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন মহাসিন হোসেন। রাতে সে বাড়ি না ফিরে আসায় এবং ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
দুই দিন পর, ২৩ জুলাই সকাল ৬টার দিকে মনিরামপুর উপজেলার পারখাজুরা বাওড়ে হাকিম মাস্টারের বাগানের পেছনের বাঁশঝাড় সংলগ্ন পানিতে ভাসমান অবস্থায় এক যুবকের মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি মহাসিনের বলে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে মনিরামপুর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিরস্ত্র) মিহির মণ্ডল জানান, তদন্তে উঠে এসেছে যে, ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজগঞ্জ বাজার মোড় থেকে মহাসিনের ভ্যানে বোরকা পরিহিত এক নারী ও অপর আসামি রাকিবুল হাসান মেহেদী যাত্রী হিসেবে ওঠেন। তারা রাজগঞ্জ-ত্রিমোহনী সড়কের দিকে যাওয়ার পর থেকেই মহাসিন নিখোঁজ হয়ে যান।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসাদুল স্বীকার করেছেন, তিনি, রাকিবসহ অন্য সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে মহাসিনকে হত্যা করেন। পরে হত্যার আলামত নষ্ট এবং মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে পারখাজুরা বাওড়ের পানিতে মরদেহ ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যান।
মনিরামপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং মামলার পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।