জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মোঃ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, 'আমরা সারাদেশে কর্মসূচি করছি। সবশেষ ঢাকায় সমাবেশ হবে। এরমধ্যে যদি সরকার গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে তাহলে আমরা গণআন্দোলন থেকে গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত যেতে বাধ্য হবো। এই মুহূর্তে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে চাই না, কিন্তু সরকার ক্রমশই পরিস্থিতি সেদিকে নিয়ে যাচ্ছে।'

প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী অনেক ভালো ভালো কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখে মধু, অন্তরে ছলনা। প্রধানমন্ত্রীর গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফলের পরে সত্তর শতাংশ মানুষের রায়ের পরেও তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করছেন না। অন্যদিকে মুখে বলছেন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবো। জুলাইয়ে একটি স্লোগান ছিল, নাটক কম আরো পিয়, তারেক রহমানকে বলছি, নাটক কম করেন প্রিয়।' 

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ অবহেলিত দক্ষিণাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের দাবিতে এগারো দলীয় জোটের বরিশাল বিভাগীয় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।


বিএনপি গণতন্ত্রবিরোধী দল উল্লেখ করে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, 'বিএনপি কখনোই গণতন্ত্রের পক্ষে ছিল না। তারা লড়াই করেছিল ক্ষমতার জন্য। ক্ষমতার জন্যই তারা গণঅভ্যুত্থানের সময় আমাদের সাথে কাঁধ মিলিয়ে ছিল। নির্বাচনের মাধ্যমে তাঁরা ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছে। এখন আর পরিবর্তনের কথা বলে না। একত্রিশ দফার কথা বলে না। তারা নাকি কখনো সংবিধান সংস্কার এর কথা বলেনি। অথচ একত্রিশ দফার প্রথম দফা ছিল সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন করা। সংবিধান সংশোধনের নামে যে প্রহসন সরকার করছে এটা এদেশের মানুষ মেনে নেবে না। সংবিধান সংশোধনের প্রহসন করে শেখ হাসিনা দিল্লিতে আছে।'

বাংলাদেশ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, 'বরিশালে কর্মসংস্থান নেই। বরিশালের মানুষ ঢাকায় গিয়ে কষ্ট করছে। পাঁচ মাসে কোনো কর্মসংস্থান হয়নি। হয়েছে চাঁদাবাজদের কর্মসংস্থান। ছাত্রদল যুবদলের কর্মসংস্থান। আমরা কর্মসংস্থান এর জন্য, বিদ্যুৎ এর জন্য, সীমান্তের সুরক্ষার জন্য, চাঁদাবাজি দুর্নীতি নির্মূল এ্য জন্য, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য, আমরা যারা চব্বিশে গণঅভ্যুত্থান করেছি আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।'

প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, 'আঠারো জুলাই শত শত শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় যখন বন্ধ করে দেয়া হয়, তখন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে কোটা আন্দোলনকে গণঅভ্যুত্থান থেকে বিপ্লবে রূপান্তরিত করেছিল। আজকের এই সমাবেশ থেকে আমরা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাই-বোনদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। আমরা ওয়াদা করছি শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ আমরা বিনির্মাণ করবো।'

সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডাঃ শফিকুর রহমান। এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন,এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ,লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপা সহ সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান,এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, ডঃ শফিকুল ইসলাম মাসুদ, জাতীয় নারীশক্তির সদস্যসচিব ডাঃ মাহমুদা মিতু এমপি, এনপিপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম শাহীনসহ এগারো দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল।

👤
নাইম ইসলাম
স্টাফ রিপোর্টার