ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ১৯নং বেগুনবাড়ী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের বান্দিগর গ্রামের মাহাদই পুকুরপাড় এলাকার সরকারি খাস জমি থেকে ৩৮টি ইউক্যালিপটাস গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় কাটা গাছগুলো জব্দ করা হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯নং বেগুনবাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুকের নির্দেশেই স্থানীয় আজগর আলীর ছেলে ফরহাদ হোসেন সরকারি খাস জমির গাছগুলো কেটে নিয়ে যাচ্ছিলেন। গাছ কাটার বিষয়টি টের পেয়ে এলাকাবাসী তাৎক্ষণিকভাবে বেগুনবাড়ী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান বাবুল হোসেনকে অবহিত করেন।
খবর পেয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান বেগুনবাড়ি বাজারে গাড়িতে থাকা কাটা গাছ এবং ঘটনাস্থলে কেটে রাখা গাছগুলো আটকে দেন। পরবর্তীতে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বিষয়টি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুল হককে জানানো হলে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে প্রতিনিধি পাঠান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জমি পরিমাপ করে সরকারি খাস জমি চিহ্নিত করার পর সেখানে লাল পতাকাযুক্ত খুঁটি স্থাপন করা হয় এবং গাছগুলো জব্দ করা হয়।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক বলেন, আমরা স্থানীয়ভাবে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছিলাম। ফরহাদ হোসেন আমাকে কিছু কাগজপত্র দেখিয়েছিল এবং জানিয়েছিল যে তিনি জমিটি লিজ নিয়েছেন। সেই প্রেক্ষিতে স্থানীয়ভাবে আলোচনা করে তাকে গাছ কাটার অনুমতি দেয়া হয়। তবে যদি সে দোষী প্রমাণিত হয়, তাহলে প্রশাসন অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে। তবে ফরহাদ হোসেন নিজেই গাছগুলো রোপণ করেছিলেন। ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ফরহাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। ফরহাদ টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় গাছগুলো জব্দ করা হয়েছে এবং প্রশাসনকে খবর দেয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বাবুল হোসেন বলেন, স্থানীয়রা আমাকে খবর দেয় যে সরকারি গাছ কেটে বিক্রি করা হচ্ছে এবং সে গাছগুলো বেগুনবাড়ি বাজারের পাশের একটি কাঠ ফারাই করা মিলে নিয়ে আসা হচ্ছে।। আমি তাৎক্ষণিক সেই গাড়িসহ গাছগুলো জব্দ করি এবং প্রশাসনকে খবর দেই। আমার বিরুদ্ধে টাকা দাবির যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা মিথ্যা। আমি কোনও ব্যক্তির কাছে অর্থ দাবি করিনি। এছাড়াও সরকারি গাছগুলো প্রায় তিন লাখ টাকার কাছাকাছি মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে। এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি সুবিধা নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।