শ্যামনগরে সরকারি খাল রক্ষার দাবিতে গিয়ে দুই কৃষক জেলে


সাতক্ষীরা শ্যামনগর উপজেলা খাল হবে জনতার অধিকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই জনবান্ধব অঙ্গীকার যখন দেশজুড়ে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিবেচিত, ঠিক তখন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় দেখা গেছে এর উল্টো চিত্র। জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষিজমি রক্ষার দাবি জানাতে গিয়ে উল্টো মামলার জালে ফেঁসে এখন শ্রীঘরে দিন কাটছে ২ জন প্রান্তিক কৃষকের।



সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের কুলতলি খালটি ঘিরেই এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, মূলত কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং হতদরিদ্র মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে মাছ আহরণের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০২৫ সালে সরকারিভাবে এই খালটি খনন করা হয়েছিল।


কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে স্থানীয় মুন্সিগঞ্জ ধানখালী গ্রামের প্রভাবশালী মোস্তফা সানা রাজনৈতিক একটি মহলকে ম্যানেজ করে অবৈধ দখল ও নেট-পাটা দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির কারণে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি সরতে না পেরে ইউনিয়নের হাজার হাজার বিঘা কৃষি জমি তলিয়ে থাকছে। এতে চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ায় চরম অর্থনৈতিক ও খাদ্য সংকটের মুখে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


 

খালটি দখলমুক্ত করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবিতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে শত শত মানুষ আন্দোলন করে আসছেন। তারা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে গণস্বাক্ষর সংবলিত স্মারকলিপি জমা দেন। কৃষকদের দাবি ছিল প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করে খালটি প্রভাবশালীদের দখলমুক্ত করা।


কৃষক আব্দুল্লাহ  আল মামুন বলেন, বিএনপি নেতা শ্যামনগর সদরের সাবেক চেয়ারম্যান লিয়াকাত বাবুর নেতৃত্বে আমাদের সাথে শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির অফিসে একটি সমঝোতা হয়েছিল। দখলকারীরা আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করবে না এবং আগামী বছরে দখলকৃত খাল কৃষকদের জন্য ছেড়ে দেবে এই মর্মে কৃষকরা খাল রক্ষার দাবি থেকে সরে আসবে। আমরা তার কথা মত দাবি মেনে নেয়ার পরেই গত ৮ই এপ্রিল খাল উদ্ধারের দাবিতে সোচ্চার হওয়া কৃষকদের বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও অনেককে অজ্ঞাতনামা আসামি করে আমাদের সাজানো একটি মামলা করে।


মামলার বিবরন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় রেহাই পাননি ৮০ বছর বয়সের বৃদ্ধরাও। অনেক বৃদ্ধ কৃষকের আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে তাদের মামলার আসামি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশি অভিযানে কৃষক জালাল গাজী (৬৫) ও মতিয়ার মল্লিককে(৫৫)গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতার পর থেকে মুন্সীগঞ্জ সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।



খাল দখল নেওয়া মোস্তফা সানা জানান, আমি হরিনগর অন্তিম বৈদ্যের কাছ থেকে হারি নিয়ে মাছ চাষ করে আসছি। এই খালটি অন্তিম বৈদ্যর সরকারের কাছ থেকে ৯৯ বছরের জন্য ইজারা নেওয়া খাল। মুন্সিগঞ্জ আটির উপরের কিছু মানুষ খাল উন্মুক্তের দাবি জানিয়ে মাছ ধরে নিয়ে গেছে এ কারণে আমি অন্তিম বৈদ্যকে বাদি করে থানায় মামলা করেছি।


শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খালেদুর রহমান বলেন, কিছু লোকজন সরকারের কাছ থেকে ইজারা নেওয়া অন্তিম বৈদ্যের খালে অনধিকার প্রবেশ করায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলা হওয়ার কারণে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়।


এলাকাবাসীর প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কেন একটি সরকারি খাল প্রভাবশালীদের দখলে থাকবে? সচেতন নাগরিক সমাজের মতে, অধিকার চাইতে গিয়ে যদি কৃষককে কারাগারে যেতে হয়, তবে সাধারণ মানুষের যাওয়ার জায়গা কোথায়?


দায়েরকৃত মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। গ্রেপ্তারকৃত নিরীহ কৃষকদের নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। কুলতলি খাল থেকে নেট-পাটা ও অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করতে হবে।