দিনের আলো ফুরোলেই প্রকল্পজুড়ে কেবল ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, আর আতঙ্কে ভারী হয়ে ওঠা বাতাস। শিশুদের কান্না, নারীদের উদ্বেগ আর পুরুষদের দীর্ঘশ্বাস—সব মিলিয়ে অন্ধকার যেন এখানে এক স্থায়ী বাসিন্দা।
আশ্রয়ণের বাসিন্দা হাফিজুল বলেন, “আট বছর আগে এখানে থাকার জায়গা দিয়েছে। ছেলে-মেয়ে নিয়ে থাকি। কিন্তু সন্ধ্যার পর ঘুটঘুটে অন্ধকার নামে। রাতে ভয় লাগে, ঘুম আসে না।”
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ঘরগুলো নির্মাণের সময় প্রাথমিক একটি তালিকা তৈরি করে পরিবারগুলোকে বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু ঘরের কাগজপত্র বুঝিয়ে দেওয়ার আগেই তৎকালীন ইউএনও ও পিআইও বদলি হয়ে যান। সেই থেকে দলিলহীন, আলোহীন জীবন কাটছে এসব পরিবারের।
বাসিন্দা বাচ্চু জানান, প্রায় দেড় বছর আগে আলেফ উদ্দিনের ঘরে কুপির আগুন থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। “টিউবওয়েলের পানি তুলে আগুন নেভাতে পারিনি। চারটি গরুসহ আলেফ উদ্দিন পুড়ে মারা যায়। যদি বিদ্যুৎ থাকতো, এমন দুর্ঘটনা হয়তো হতো না।”
আশ্রয়ণের পশ্চিম পাশে ছোট যমুনা নদীর চরে কিছু মালিকানাধীন জমি থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রকল্পটি নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, এভাবে মাটি কাটা চলতে থাকলে বর্ষায় নদীর স্রোত পরিবর্তিত হয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্প বিলীন হয়ে যেতে পারে।
একজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একদিকে আলো নেই, অন্যদিকে ভিটেমাটি হারানোর ভয়। আমরা যাবো কোথায়?”
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া:
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, শীতের শুরুতে কম্বল বিতরণে গিয়ে সমস্যার বিষয়টি জানতে পেরেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি জানান, “অনেক আগে ঘরগুলো নির্মাণ হয়েছে। কেন তখন দলিল দেওয়া হয়নি, তা জানা নেই। কাগজ না থাকলে বিদ্যুৎ বিভাগ সংযোগ দেবে না। যারা মাটি কাটছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলিল প্রদান ও বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”