বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সারা দেশে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হলেও যশোরের অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। ভাষা শহীদদের সম্মানে আজ দেশের সকল সরকারি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা থাকলেও তা মানেনি শহরতলীর বেশ কিছু প্রাথমিক বিদ্যালয়।

শনিবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, শহরতলীর খোলাডাঙ্গা কর্মজীবী সংস্থা শিশু শিক্ষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২৩৫নং খোলাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১২৬নং কারবালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো পতাকা উত্তোলন করা হয়নি। শোকের এই দিনে প্রতিষ্ঠানগুলো পতাকা ছাড়াই তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।

এ বিষয়ে খোলাডাঙ্গা কর্মজীবী সংস্থা শিশু শিক্ষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর জাহান বেগম অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে ২৩৫নং খোলাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহীদ হোসেন মনা দাবি করেন, তারা স্কুল থেকে চলে আসার সময় পতাকা নামিয়ে ফেলেছেন। অন্যদিকে, ১২৬নং কারবালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমেনা কবীর খান পতাকা না থাকার বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে খবরটি প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানান।

জাতীয় পতাকা বিধিমালা অনুযায়ী, ২১শে ফেব্রুয়ারির মতো শোকের দিনে সূর্যোদয়ের পর পতাকাটি প্রথমে দণ্ডের শীর্ষভাগ পর্যন্ত উত্তোলন করে তারপর অর্ধনমিত অবস্থায় বাঁধার নিয়ম রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো সংবেদনশীল জায়গায় এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

এ বিষয়ে সদরের সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার মুন্সী মোহাম্মদ সোহেল রানার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিংয়ে আছেন জানিয়ে পরবর্তীতে কথা বলবেন বলে জানান। শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত পতাকার প্রতি শিক্ষকদের এমন উদাসীনতাকে ‘জাতীয় অবমাননা’ হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ।