নরসিংদী প্রতিনিধি:
নরসিংদী জেলায় ১৯৯৫ সালে বিক্রি হওয়া একটি জমিকে ঘিরে নতুন করে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। পূর্বে বিক্রিত জমির দলিল গোপন রেখে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।
মামলার আর্জি সূত্রে জানা যায়, চন্দন চন্দ্র রায়ের ছেলে শম্ভুনাথ রায় নরসিংদী বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (এম মামলা নং–৩১৩/২০২৪) একটি আবেদন দায়ের করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, আরএস ৫২৭৬ দাগের ৬৩ শতাংশ ভূমি ওয়ারিশ ও মাতৃসূত্রে তাদের মালিকানাধীন। অভিযোগে বলা হয়, জমিতে দোকানঘর নির্মাণ করে ভাড়াটিয়ার মাধ্যমে দখলে রয়েছেন এবং নিয়মিত খাজনাও পরিশোধ করা হয়েছে।
তবে অপর পক্ষের দাবি, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি শোভারানী রায় ১৯৯৫ সালে ১০৭৭৬ নম্বর দলিলের মাধ্যমে বিক্রি করে দেন। পরবর্তীতে সরকারি খাসজমির লিজ নেওয়া অংশও নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও দাবি করা হয়, জমির প্রকৃত মালিক ছিলেন বিমল চন্দ্র রায়। তার ওয়ারিশগণ পরবর্তীতে সম্পত্তি দিলীপ চন্দ্র রায়ের ছেলে সুজন রায়ের কাছে বিক্রি করেন।
অভিযোগ রয়েছে, পূর্বেই বিক্রি হয়ে যাওয়া জমির দলিল গোপন রেখে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ বিষয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ-বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও অভিযোগকারী পক্ষ কোনো বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেননি বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে, শম্ভুনাথ রায়ের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক দখল ও চাঁদা দাবির অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
অপরদিকে, বিমল চন্দ্র রায়ের ওয়ারিশদের অভিযোগ—সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও খারিজ সম্পন্ন থাকা সত্ত্বেও তারা সুজন রায়কে প্রত্যক্ষভাবে দখল বুঝিয়ে দিতে পারছেন না।
উল্লেখ্য, মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত কোনো পক্ষের দাবি-দাওয়ার সত্যতা নির্ধারিত নয়।
(চলবে – দ্বিতীয় পর্ব)